Extinguishers
ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের নিয়ম: PASS পদ্ধতি, সতর্কতা, মাসিক চেক ও রিফিল
ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের নিয়ম ধাপে ধাপে: PASS পদ্ধতি, কোন আগুনে কোনটা ব্যবহার করবেন না, মাসিক চেকের তালিকা এবং মেয়াদ ও রিফিল যাচাইয়ের সহজ নিয়ম।
Safety Plus টেকনিক্যাল টিম · হালনাগাদ · 7 মিনিট পড়া
ব্যবহারের আগে তিনটি সিদ্ধান্ত
আগুন দেখলে প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় এক্সটিংগুইশার নিয়ে দৌড়ানো। কিন্তু তার আগে কয়েক সেকেন্ডে তিনটা বিষয় ঠিক করে নিন:
- অ্যালার্ম বাজানো হয়েছে কি? নিজে নেভানোর চেষ্টা করার আগে বা সাথে সাথে ফায়ার অ্যালার্মের কল পয়েন্ট চাপুন অথবা চিৎকার করে আশেপাশের সবাইকে জানান। কাউকে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করতে বলুন।
- বের হওয়ার পথ আমার পেছনে আছে কি? এমনভাবে দাঁড়ান যাতে আগুন সামনে আর বের হওয়ার দরজা পেছনে থাকে। আগুন আর দরজার মাঝে কখনো আটকে যাবেন না।
- আগুন কি এখনো ছোট? হাতে ধরা এক্সটিংগুইশার শুরুর পর্যায়ের ছোট আগুনের জন্য। আগুন ছাদ ছুঁয়ে ফেললে, ধোঁয়া ঘন হয়ে গেলে বা দ্রুত ছড়াতে থাকলে নেভানোর চেষ্টা বাদ দিয়ে বের হয়ে যান।
এর সাথে আরেকটা প্রশ্ন: হাতের এক্সটিংগুইশার কি এই আগুনের জন্য সঠিক? লেবেলে কোন শ্রেণির আগুনে ব্যবহারযোগ্য তা লেখা থাকে। ভুল ধরন ব্যবহার করলে আগুন আরও বাড়তে পারে।
PASS পদ্ধতি ধাপে ধাপে
বেশিরভাগ হাতে ধরা এক্সটিংগুইশার একই পদ্ধতিতে চালাতে হয়। সহজে মনে রাখার জন্য ইংরেজি শব্দ PASS:
- P — Pull (পিন টানুন): হাতলের মাঝের সেফটি পিনটা মুচড়ে টেনে বের করুন। এতে সিল ভাঙবে — এটা স্বাভাবিক।
- A — Aim (তাক করুন): নজল বা হোস আগুনের গোড়ায় তাক করুন, শিখার দিকে নয়। আগুন জ্বলে জ্বালানির উপর, শিখায় নয়।
- S — Squeeze (চাপুন): ওপরের হাতল ধীরে কিন্তু দৃঢ়ভাবে নিচের হাতলের দিকে চাপুন। ছেড়ে দিলে ডিসচার্জ থেমে যায়।
- S — Sweep (ঝাড়ুন): নজল এপাশ-ওপাশ ঝাড়ুর মতো নাড়ান, যতক্ষণ না আগুন পুরোপুরি নিভে যায়।
কয়েকটা ব্যবহারিক পরামর্শ:
- লেবেলে লেখা দূরত্ব থেকে শুরু করুন, আগুন কমলে ধীরে ধীরে এগোন।
- হাতে ধরা এক্সটিংগুইশার খুব অল্প সময়েই খালি হয়ে যায় — তাই প্রথম থেকেই সঠিক জায়গায় তাক করুন।
- আগুন নিভে গেলেও কিছুক্ষণ নজর রাখুন, আবার জ্বলে উঠতে পারে।
- বাইরে থাকলে বাতাস পেছনে রেখে দাঁড়ান, যাতে পাউডার বা ধোঁয়া আপনার দিকে না আসে।
ধরন অনুযায়ী বিশেষ সতর্কতা
PASS সবার জন্য একই হলেও প্রতিটি ধরনের কিছু আলাদা বিষয় জানা দরকার:
- ড্রাই পাউডার (ABC/ABCE): ডিসচার্জের সময় পাউডারের মেঘ তৈরি হয় এবং দৃষ্টি কমে যায়। ছোট বন্ধ রুমে শ্বাস নিতে অস্বস্তি হতে পারে — কাজ শেষে রুম থেকে বের হয়ে ভেন্টিলেশন করুন। পাউডার ইলেকট্রনিক্সে ঢুকে ক্ষতি করতে পারে।
- CO2: হর্ন বা ডিসচার্জ নজল খুব ঠান্ডা হয়ে যায় — হর্ন হাত দিয়ে ধরবেন না, নির্ধারিত হাতল ধরুন, নইলে হাতে ঠান্ডাজনিত ক্ষত হতে পারে। ছোট বন্ধ রুমে ব্যবহারের পর দ্রুত বের হয়ে আসুন। CO2 শুধু গ্যাস, তাই কাপড় বা কাগজের গভীর আগুন আবার জ্বলে উঠতে পারে।
- ফোম: তরলের আগুনে নজল সরাসরি তরলের মাঝে না মেরে পাশের দেয়াল বা কিনারায় মারুন, যাতে ফোম ধীরে ছড়িয়ে আস্তরণ তৈরি করে। বিদ্যুৎ সংযুক্ত যন্ত্রে ব্যবহার করবেন না।
- K-type (কিচেন): গরম তেলের পাত্রে আলতোভাবে ছাড়ুন যাতে তেল ছিটকে না যায়। আগে চুলা বা গ্যাস বন্ধ করুন, যদি নিরাপদে করা যায়।
কোন ধরন কোথায় রাখবেন তা নিয়ে পড়ুন ফায়ার এক্সটিংগুইশারের দাম ও প্রকারভেদ।
কোন আগুনে কোনটা ব্যবহার করবেন না
ভুল এক্সটিংগুইশার ব্যবহার শুধু অকার্যকর নয়, বিপজ্জনকও হতে পারে। এই টেবিলটা কর্মীদের প্রশিক্ষণে কাজে লাগে:
| আগুন | ব্যবহার করবেন না | কারণ |
|---|---|---|
| বিদ্যুৎ সংযুক্ত প্যানেল, মোটর, DB বক্স | পানি, ফোম | পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী — বৈদ্যুতিক শকের ঝুঁকি |
| রান্নার গরম তেল | পানি | পানি মুহূর্তে বাষ্প হয়ে জ্বলন্ত তেল ছিটিয়ে দেয় |
| পেট্রোল, ডিজেল, থিনার | পানির জেট | তরল ছড়িয়ে আগুন বড় করে |
| দামি ইলেকট্রনিক্স ও সার্ভার | ড্রাই পাউডার (বিকল্প থাকলে) | পাউডার যন্ত্রের ভিতরে ঢুকে ক্ষতি করে — CO2 ভালো |
| কাপড়, কাগজ, তুলার গভীর আগুন | শুধু CO2-এর উপর ভরসা | গ্যাস সরে গেলে আগুন আবার জ্বলে উঠতে পারে |
| গ্যাস লাইন লিক থেকে আগুন | গ্যাস বন্ধ না করে নেভানো | নিভলেও গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঝুঁকি |
বিদ্যুতের আগুনে সম্ভব হলে আগে মেইন সুইচ বন্ধ করুন। গ্যাসের আগুনে আগে ভাল্ভ বন্ধ করা জরুরি, যদি নিরাপদে সেখানে পৌঁছানো যায়।
মাসিক চেক: যা নিজে দেখবেন
প্রতিটি এক্সটিংগুইশার মাসে অন্তত একবার চোখে দেখে চেক করা একটা প্রচলিত ও ভালো অভ্যাস। এর জন্য বিশেষজ্ঞ লাগে না — প্রতি ফ্লোরের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী করতে পারেন:
- জায়গায় আছে কি: নির্ধারিত জায়গায় ঝুলছে, সামনে কোনো বাধা নেই, সহজে চোখে পড়ে।
- প্রেশার গেজ: স্টোরড প্রেশার টাইপে কাঁটা সবুজ ঘরে আছে কিনা।
- পিন ও সিল: সেফটি পিন জায়গায় আছে, সিল অক্ষত।
- বাইরের অবস্থা: সিলিন্ডারে মরিচা, ডেন্ট বা ফাটল নেই।
- হোস ও নজল: ফাটল নেই, ভিতরে ময়লা বা পোকা জমেনি।
- লেবেল: ব্যবহারবিধি পড়া যায়।
- ট্যাগ: শেষ সার্ভিসের তারিখ লেখা আছে।
প্রতিটি চেকের পর ট্যাগে বা রেজিস্টারে তারিখ ও নাম লিখে রাখুন। কোনো সমস্যা পেলে সাথে সাথে সেই এক্সটিংগুইশার সরিয়ে বদলি দিন — খালি জায়গা রেখে দেবেন না।
মেয়াদ, রিফিল ও বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ
"ফায়ার এক্সটিংগুইশারের মেয়াদ কতদিন?" — এটা খুব সাধারণ প্রশ্ন, কিন্তু সব এক্সটিংগুইশারের জন্য এক উত্তর নেই। ধরন, নির্মাতা ও প্রযোজ্য স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সার্ভিস, রিফিল ও সিলিন্ডার টেস্টের সময়সূচি আলাদা। তাই এই নিয়মগুলো মেনে চলুন:
- লেবেল পড়ুন: নির্মাতা লেবেলে উৎপাদনের তারিখ ও সার্ভিসের নির্দেশনা দেন — সেটাই প্রথম রেফারেন্স।
- বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ: বছরে অন্তত একবার দক্ষ সার্ভিস প্রোভাইডার দিয়ে ভিতর-বাইরে পরীক্ষা করান এবং ট্যাগ হালনাগাদ করুন।
- ব্যবহারের পর রিফিল: অল্প একটু চাপ দিলেও এক্সটিংগুইশার রিফিল করাতে হবে — আংশিক খালি এক্সটিংগুইশারে ভরসা করবেন না।
- গেজ লাল ঘরে গেলে: চাপ কমে গেছে — রিফিল বা সার্ভিস দরকার।
- সিলিন্ডার টেস্ট: নির্দিষ্ট সময় পরপর সিলিন্ডারের চাপ সহনশীলতা পরীক্ষা (হাইড্রোস্ট্যাটিক টেস্ট) করাতে হয়; কবে লাগবে তা সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছ থেকে জেনে নিন।
- বদলানোর সময়: সিলিন্ডারে মরিচা, ডেন্ট বা টেস্টে ব্যর্থ হলে নতুন কিনুন।
নতুন বা বদলি এক্সটিংগুইশার দেখুন ফায়ার এক্সটিংগুইশার পেজে, আর স্ট্যান্ড, বাকেট ও বক্সের জন্য ফায়ার সেফটি ইকুইপমেন্ট। কারখানার জন্য পুরো তালিকা নিয়ে কোটেশন অনুরোধ পাঠাতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন
PASS পদ্ধতি কী?
PASS হলো Pull (পিন টানুন), Aim (আগুনের গোড়ায় তাক করুন), Squeeze (হাতল চাপুন) ও Sweep (এপাশ-ওপাশ ঝাড়ুন)। বেশিরভাগ হাতে ধরা এক্সটিংগুইশার এভাবেই চালাতে হয়।
ফায়ার এক্সটিংগুইশার আগুনের কোন জায়গায় মারতে হয়?
শিখায় নয়, আগুনের গোড়ায় — যেখানে জিনিসটা জ্বলছে। শিখায় মারলে এজেন্ট নষ্ট হয় আর আগুন নেভে না।
অল্প ব্যবহার করা এক্সটিংগুইশার কি আবার রাখা যাবে?
না, অল্প ব্যবহারের পরও রিফিল করাতে হবে। আংশিক খালি এক্সটিংগুইশার পরের আগুনে মাঝপথে শেষ হয়ে যেতে পারে।
ফায়ার এক্সটিংগুইশারের মেয়াদ কীভাবে বুঝব?
লেবেলে উৎপাদনের তারিখ, ট্যাগে শেষ সার্ভিসের তারিখ এবং প্রেশার গেজ দেখুন। ধরন অনুযায়ী সার্ভিস ও সিলিন্ডার টেস্টের সময়সূচি আলাদা, তাই নির্মাতার নির্দেশনা ও সার্ভিস প্রোভাইডারের পরামর্শ মানুন।
CO2 এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের সময় কী সাবধানতা দরকার?
হর্ন খুব ঠান্ডা হয়ে যায়, তাই হর্ন হাত দিয়ে ধরবেন না। ছোট বন্ধ রুমে ব্যবহারের পর দ্রুত বের হয়ে ভেন্টিলেশন করুন।
কোটেশন নিন
নাম, ফোন আর কী দরকার — এটুকুই যথেষ্ট। আমরা কল করব।