Skip to content
Safety PlusINDUSTRY · BANGLADESH

Compliance

কারখানার অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জামের তালিকা: RMG ও টেক্সটাইল ফ্লোরের পূর্ণ চেকলিস্ট

RMG ও টেক্সটাইল কারখানার প্রোডাকশন ফ্লোর, স্টোর, ইলেকট্রিক্যাল রুম ও সিঁড়ির জন্য জোনভিত্তিক অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জামের পূর্ণ তালিকা ও যাচাইয়ের চেকলিস্ট।

Safety Plus টেকনিক্যাল টিম · হালনাগাদ · 8 মিনিট পড়া

তালিকা বানানোর আগে: কারখানাকে জোনে ভাগ করুন

একটা গার্মেন্টস বা টেক্সটাইল কারখানায় সব জায়গার আগুনের ঝুঁকি এক রকম নয়। সেলাই ফ্লোরে শত শত মানুষ আর সুতার ধুলা; কাটিং সেকশনে কাপড়ের স্তূপ; স্টোরে রোল আর কার্টন; জেনারেটর রুমে ডিজেল; প্যানেল রুমে উচ্চ বিদ্যুৎ। তাই "কারখানার জন্য কী কী লাগবে" — এর উত্তর জোন ধরে দিলে ভুল কম হয়।

একটা সাধারণ RMG ভবনকে এভাবে ভাগ করা যায়:

  1. প্রোডাকশন ফ্লোর — সেলাই, ফিনিশিং, প্যাকিং
  2. কাটিং সেকশন ও স্টোর/ওয়্যারহাউস — কাপড়, এক্সেসরিজ, তৈরি পণ্য
  3. ইলেকট্রিক্যাল রুম, জেনারেটর ও বয়লার এরিয়া
  4. ক্যান্টিন ও রান্নাঘর
  5. সিঁড়ি, করিডোর ও এক্সিট

ফ্লোর প্ল্যানের একটা কপি নিয়ে প্রতিটি জোন রঙ দিয়ে চিহ্নিত করুন, তারপর নিচের অংশগুলো ধরে প্রতিটি জোনে কী আছে আর কী নেই তা লিখুন। RMG খাতের সামগ্রিক প্রয়োজন দেখতে RMG ও টেক্সটাইল পেজ দেখুন।

প্রোডাকশন ফ্লোর: যেখানে মানুষ সবচেয়ে বেশি

সেলাই ও ফিনিশিং ফ্লোরে সবচেয়ে বেশি মানুষ কাজ করে, তাই এখানে লক্ষ্য দুটো — আগুন দ্রুত শনাক্ত করা এবং সবাইকে দ্রুত বের করা।

  • ফায়ার এক্সটিংগুইশার: সাধারণত ABCE ড্রাই পাউডার, এমনভাবে ছড়ানো যাতে যেকোনো মেশিন থেকে অল্প হেঁটেই একটা পাওয়া যায়। সংখ্যা ও দূরত্ব অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক করুন।
  • স্মোক ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল কল পয়েন্ট: ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেমের অংশ হিসেবে; কল পয়েন্ট বের হওয়ার পথের কাছে।
  • অ্যালার্ম সাউন্ডার: মেশিনের শব্দের মধ্যেও যেন শোনা যায়।
  • ইমার্জেন্সি লাইট ও এক্সিট সাইন: বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে মানুষ যেন পথ খুঁজে পায়।
  • ফায়ার হোস ক্যাবিনেট: ভবনের হাইড্র্যান্ট সিস্টেম অনুযায়ী প্রতিটি ফ্লোরে।
  • খালি আইল: মেশিনের সারির মাঝে চলাচলের পথ বান্ডেল বা ট্রলি দিয়ে বন্ধ না করা।

প্রোডাকশন ফ্লোরে ইলেকট্রিক্যাল DB বক্স অনেক থাকে। ভাঙা ঢাকনা বা খোলা তার আগুনের সাধারণ উৎস — মজবুত, ঢাকনাসহ ইলেকট্রিক্যাল ডিবি বক্স ব্যবহার করুন — কী দেখে কিনবেন তা নিয়ে পড়ুন ইলেকট্রিক্যাল ডিবি বক্স গাইড।

কাটিং সেকশন, স্টোর ও ওয়্যারহাউস

কাপড়, সুতা, কার্টন আর পলিব্যাগ — সব একসাথে থাকায় স্টোর ও কাটিং সেকশনে আগুন একবার ধরলে দ্রুত ছড়ায়।

  • বড় ক্যাপাসিটির এক্সটিংগুইশার: হাতে ধরা এক্সটিংগুইশারের পাশাপাশি 25 kg ABC ট্রলি রাখা প্রচলিত।
  • স্প্রিংকলার: ভবনের ডিজাইন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী লাগলে, স্প্রিংকলার হেডের নিচে মালামাল রাখার উচ্চতা সীমিত রাখুন যাতে পানি সব জায়গায় পৌঁছায়।
  • র‍্যাকিং: মালামাল মেঝেতে স্তূপ না করে র‍্যাকে সাজান; র‍্যাকের মাঝে চলাচল ও ফায়ার ফাইটিংয়ের পথ রাখুন।
  • স্মোক ডিটেক্টর: বন্ধ স্টোরে আগুন দীর্ঘক্ষণ কারো চোখে না পড়তে পারে।
  • স্টোরের দরজা: স্টোরকে বাকি ভবন থেকে আলাদা রাখতে ফায়ার রেটেড ডোর বিবেচনা করুন।
  • ধূমপান নিষেধ সাইন ও কঠোরভাবে মেনে চলা।

স্টোরের জন্য র‍্যাক বাছাই নিয়ে পড়ুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল র‍্যাক গাইড।

ইলেকট্রিক্যাল রুম, জেনারেটর, বয়লার ও ক্যান্টিন

এই জায়গাগুলোতে মানুষ কম থাকে, কিন্তু আগুনের উৎস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

জায়গাপ্রধান ঝুঁকিপ্রচলিত সরঞ্জাম
ইলেকট্রিক্যাল প্যানেল রুমশর্ট সার্কিট, ওভারহিটিংCO2 এক্সটিংগুইশার, স্মোক ডিটেক্টর, প্রয়োজনে FM200 বা CO2 সাপ্রেশন সিস্টেম, ফায়ার রেটেড দরজা
জেনারেটর রুমডিজেল, গরম ইঞ্জিনফোম ও CO2 এক্সটিংগুইশার, স্যান্ড বাকেট, ফায়ার রেটেড দরজা
বয়লার এরিয়াউচ্চ তাপ, জ্বালানিড্রাই পাউডার বা ফোম এক্সটিংগুইশার, পরিষ্কার চলাচলের পথ
ক্যান্টিন ও রান্নাঘরগরম তেল, গ্যাসK-type কিচেন এক্সটিংগুইশার, গ্যাস লাইনের নিরাপদ শাট-অফ

মানুষ থাকে না এমন বন্ধ ইলেকট্রিক্যাল বা জেনারেটর রুমে স্বয়ংক্রিয় গ্যাস সাপ্রেশন সিস্টেম বিবেচনা করা হয়। কোনটা কোথায় মানায় তা নিয়ে পড়ুন FM200 বনাম CO2। সাপ্রেশন সিস্টেমের বিস্তারিত পাবেন ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম পেজে।

সিঁড়ি, এক্সিট ও ফায়ার ডোর

RMG কারখানার অগ্নি নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: আগুন লাগলে সবাই কি নিরাপদে নামতে পারবে? এর উত্তর নির্ভর করে সিঁড়ি আর বের হওয়ার পথের উপর।

  • সিঁড়ির প্রবেশমুখে ফায়ার রেটেড ডোর: সিঁড়িকে ধোঁয়ামুক্ত রাখে। সাথে UL-marked door closer ও panic bar, যাতে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা দিলেই খোলে।
  • দরজা খোলার দিক: বের হওয়ার পথের দরজা সাধারণত বের হওয়ার দিকে খোলার মতো হওয়া উচিত।
  • কলাপসিবল গেট ও স্লাইডিং দরজা: RSC-ধরনের পরিদর্শনে বের হওয়ার পথে কলাপসিবল গেট, শাটার বা স্লাইডিং দরজা আপত্তির বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এগুলোর বদলে উপযুক্ত সাইড-হিঞ্জড দরজা ব্যবহার করুন।
  • ইমার্জেন্সি লাইট: সিঁড়ির প্রতিটি ল্যান্ডিংয়ে।
  • এক্সিট সাইন: প্রতিটি দরজা ও দিক পরিবর্তনের জায়গায়।
  • সিঁড়িতে কোনো মালামাল নয়: কার্টন বা ভাঙা চেয়ার রাখার জায়গা হিসেবে সিঁড়ি ব্যবহার বন্ধ করুন।

Safety Plus-এর SFD সিরিজ ফায়ার রেটেড ডোর 180 মিনিট পর্যন্ত রেটিংয়ে তৈরি হয়। দেখুন ফায়ার রেটেড ডোর। RMG কমপ্লায়েন্সের বর্তমান শর্তের জন্য RMG Sustainability Council-এর ওয়েবসাইট rsc-bd.org দেখুন।

এক নজরে পূর্ণ চেকলিস্ট

প্রিন্ট করে প্রতিটি ফ্লোরে নিয়ে মিলিয়ে দেখার জন্য সংক্ষিপ্ত টেবিল:

জোনসরঞ্জামকীভাবে যাচাই করবেন
সব ফ্লোরABCE এক্সটিংগুইশারগেজ সবুজ, ট্যাগ হালনাগাদ, নাগালের মধ্যে
সব ফ্লোরস্মোক ডিটেক্টর, কল পয়েন্ট, সাউন্ডারনিয়মিত টেস্ট রেকর্ড
সব ফ্লোরইমার্জেন্সি লাইট ও এক্সিট সাইনবিদ্যুৎ বন্ধ করে পরীক্ষা
সব ফ্লোরফায়ার হোস ক্যাবিনেটসরঞ্জাম সম্পূর্ণ, সামনে খালি
সব ফ্লোরইভাকুয়েশন প্ল্যানদৃশ্যমান জায়গায় টাঙানো
স্টোর ও কাটিং25 kg ABC ট্রলি, র‍্যাকচলাচলের পথ খালি
প্যানেল রুমCO2 এক্সটিংগুইশার, ঢাকনাসহ DB বক্সখোলা তার নেই
জেনারেটর রুমফোম/CO2 এক্সটিংগুইশার, স্যান্ড বাকেটবাকেট ভরা
ক্যান্টিনK-type এক্সটিংগুইশারচুলার কাছেই, পথ খালি
সিঁড়িফায়ার ডোর, closer, panic barদরজা নিজে বন্ধ হয়, খুলে রাখা নেই
ফায়ার টিমফায়ারফাইটার PPE ও টুলসনির্দিষ্ট জায়গায় সংরক্ষিত

ইংরেজিতে বিস্তারিত চেকলিস্ট: RMG factory fire safety equipment checklist।

রক্ষণাবেক্ষণ, রেকর্ড ও ফায়ার ড্রিল

সরঞ্জাম কিনে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখলেই কাজ শেষ নয়। অনেক কারখানায় পরিদর্শনে দেখা যায় সরঞ্জাম আছে, কিন্তু কাজ করে না।

  • মাসিক চেক: প্রতিটি এক্সটিংগুইশার, ইমার্জেন্সি লাইট ও ফায়ার ডোর মাসে অন্তত একবার চোখে দেখে চেক করুন এবং তারিখসহ লিখে রাখুন।
  • বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ: এক্সটিংগুইশার ও অ্যালার্ম সিস্টেম দক্ষ সার্ভিস প্রোভাইডার দিয়ে সার্ভিস করান।
  • ব্যবহারের পর রিফিল: অল্প ব্যবহার হলেও এক্সটিংগুইশার রিফিল করান।
  • ফায়ার ড্রিল: নিয়মিত ড্রিল করুন, কত সময়ে ভবন খালি হলো লিখে রাখুন।
  • প্রশিক্ষণ: প্রতিটি ফ্লোরে কয়েকজন কর্মীকে এক্সটিংগুইশার ব্যবহার ও ইভাকুয়েশনে প্রশিক্ষণ দিন। নতুন কর্মী যোগ দিলে আবার।

এক্সটিংগুইশার ব্যবহার ও চেকের নিয়ম নিয়ে পড়ুন ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের নিয়ম। আপনার কারখানার ঘাটতির তালিকা নিয়ে কোটেশন অনুরোধ পাঠান — Safety Plus ফায়ার ডোর, হোস ক্যাবিনেট, DB বক্স ও র‍্যাক নিজস্ব কারখানায় তৈরি করে।

সাধারণ প্রশ্ন

গার্মেন্টস কারখানায় সবচেয়ে জরুরি অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম কোনগুলো?

ফায়ার অ্যালার্ম ও ডিটেক্টর, এক্সটিংগুইশার, ইমার্জেন্সি লাইট, এক্সিট সাইন এবং সিঁড়িতে ফায়ার রেটেড ডোর। সাথে বের হওয়ার পথ সবসময় বাধামুক্ত রাখা।

প্রতি ফ্লোরে কয়টা এক্সটিংগুইশার লাগবে?

সংখ্যা ফ্লোরের আয়তন, ঝুঁকির মাত্রা ও প্রযোজ্য নিয়মের উপর নির্ভর করে। আপনার অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বা ফায়ার কনসালট্যান্টের হিসাব অনুযায়ী ঠিক করুন।

বের হওয়ার পথে কলাপসিবল গেট রাখা যাবে কি?

RSC-ধরনের পরিদর্শনে বের হওয়ার পথে কলাপসিবল গেট বা স্লাইডিং দরজা সাধারণত আপত্তির বিষয়। এর বদলে বের হওয়ার দিকে খোলে এমন উপযুক্ত দরজা ব্যবহার করুন।

জেনারেটর রুমে কোন এক্সটিংগুইশার রাখব?

ডিজেলের আগুনের জন্য ফোম বা CO2 এক্সটিংগুইশার এবং স্যান্ড বাকেট প্রচলিত। বিদ্যুৎ সংযুক্ত অংশে ফোম ব্যবহার করবেন না।

ফায়ার ড্রিল কত ঘন ঘন করা উচিত?

ড্রিলের ঘনত্ব প্রযোজ্য নিয়ম ও ক্রেতা বা পরিদর্শন সংস্থার শর্ত অনুযায়ী ঠিক হয়। আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত জেনে সেই অনুযায়ী নিয়মিত ড্রিল করুন ও রেকর্ড রাখুন।

তথ্যসূত্র

কোটেশন নিন

নাম, ফোন আর কী দরকার — এটুকুই যথেষ্ট। আমরা কল করব।

We use your details only to answer this request. See our privacy policy.

Call WhatsApp Quote