Skip to content
Safety PlusINDUSTRY · BANGLADESH

Suppression systems

FM200 বনাম CO2 ফায়ার সাপ্রেশন: কোনটা কোথায়, মানুষের ঝুঁকি ও সার্ভার রুমের জন্য কোনটা

FM200 ও CO2 সাপ্রেশন সিস্টেমের পার্থক্য, মানুষ থাকা জায়গায় CO2-এর ঝুঁকি, সার্ভার ও ইলেকট্রিক্যাল রুমে কোনটা মানানসই এবং ডিজাইনের আগে কী জানবেন।

Safety Plus টেকনিক্যাল টিম · হালনাগাদ · 7 মিনিট পড়া

এক নজরে পার্থক্য

সার্ভার রুম বা ইলেকট্রিক্যাল রুমে স্প্রিংকলারের পানি যন্ত্রপাতির বড় ক্ষতি করতে পারে। তাই এসব জায়গায় গ্যাসভিত্তিক সাপ্রেশন সিস্টেম ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি যে দুটো নিয়ে প্রশ্ন আসে, সেগুলো FM200 ও CO2।

বিষয়FM200CO2
এজেন্টের ধরনক্লিন এজেন্ট (HFC-227ea)কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস
কীভাবে নেভায়মূলত তাপ শোষণ করে আগুনের রাসায়নিক বিক্রিয়া থামায়রুমে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়
মানুষ থাকা জায়গাসঠিক ডিজাইন কনসেনট্রেশনে উপযোগীঝুঁকিপূর্ণ — মূলত মানুষবিহীন জায়গার জন্য
অবশিষ্টাংশথাকে নাথাকে না
বিদ্যুৎ পরিবাহীনানা
প্রচলিত জায়গাসার্ভার রুম, ডেটা সেন্টার, UPS রুম, কন্ট্রোল রুম, আর্কাইভজেনারেটর রুম, টারবাইন, কেবল টানেল, প্রিন্টিং মেশিন, পেইন্ট বুথ
সংশ্লিষ্ট NFPA স্ট্যান্ডার্ডNFPA 2001 (ক্লিন এজেন্ট)NFPA 12 (CO2)

Safety Plus FM200 ও CO2 — দুই ধরনের সাপ্রেশন সিস্টেমই সরবরাহ ও ইনস্টল করে। বিস্তারিত দেখুন ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম পেজে।

FM200 কীভাবে কাজ করে ও কোথায় মানায়

FM200 একটা তরলীকৃত গ্যাস, যা সিলিন্ডারে চাপের মধ্যে রাখা হয়। রুমে স্মোক বা হিট ডিটেক্টর আগুন শনাক্ত করলে কন্ট্রোল প্যানেল প্রথমে অ্যালার্ম দেয়, তারপর নির্ধারিত বিলম্বের পর সিলিন্ডারের ভাল্‌ভ খুলে দেয়। নজল দিয়ে গ্যাস খুব দ্রুত — সেকেন্ডের হিসাবে — পুরো রুমে ছড়িয়ে পড়ে আর আগুন নিভিয়ে দেয়।

FM200-এর প্রধান সুবিধা:

  • যন্ত্রপাতির ক্ষতি নেই: পানি, পাউডার বা ফোমের মতো কোনো অবশিষ্টাংশ থাকে না। আগুন নেভার পর রুম ভেন্টিলেট করলেই হয়।
  • মানুষ থাকা জায়গায় ব্যবহারযোগ্য: সঠিক ডিজাইন কনসেনট্রেশনে এটা মানুষ থাকা জায়গার জন্য উপযোগী ক্লিন এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার হয়। তবুও ডিসচার্জের সময় রুম থেকে বের হয়ে যাওয়াই নিয়ম।
  • দ্রুত কাজ করে: আগুন বড় হওয়ার আগেই নিভিয়ে দেয়, যা ডেটা ও যন্ত্রপাতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব জায়গায় সবচেয়ে মানায়: সার্ভার রুম, ডেটা সেন্টার, ব্যাংকের ভল্ট ও আর্কাইভ, টেলিকম রুম, UPS ও ব্যাটারি রুম, BMS বা কন্ট্রোল রুম। ব্যাংক ও ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন জানতে দেখুন ব্যাংক ও ডেটা সেন্টার।

FM200 একটা HFC গ্যাস, তাই পরিবেশগত কারণে এর বিকল্প হিসেবে অন্য ক্লিন এজেন্টও বিবেচনা করা হয়। এ নিয়ে ইংরেজিতে পড়ুন FM200 vs Novec 1230।

CO2 কীভাবে কাজ করে ও কোথায় মানায়

CO2 সিস্টেম রুমে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা এতটা কমিয়ে দেয় যে আগুন আর জ্বলতে পারে না। গ্যাস বের হওয়ার সময় ঠান্ডাও করে।

CO2-এর সুবিধা:

  • এজেন্ট সহজলভ্য: CO2 গ্যাস সহজে পাওয়া যায় এবং সাধারণত এজেন্টের খরচ তুলনামূলক কম।
  • অবশিষ্টাংশ নেই: যন্ত্রপাতি পরিষ্কারের ঝামেলা নেই।
  • গভীর জায়গায় পৌঁছায়: মেশিনের ভিতরের ফাঁক বা কেবল ট্রেতে গ্যাস ঢুকে যেতে পারে।
  • লোকাল অ্যাপ্লিকেশন: পুরো রুম না ভরিয়ে নির্দিষ্ট মেশিন বা অংশে সরাসরি ছাড়ার ডিজাইনও করা যায়।

যেসব জায়গায় প্রচলিত: মানুষ থাকে না এমন জেনারেটর রুম, টারবাইন এনক্লোজার, কেবল টানেল ও কেবল ভল্ট, প্রিন্টিং প্রেস, পেইন্ট বুথ, ডিপ ফ্রায়ার বা শিল্প প্রক্রিয়ার মেশিন।

মূল শর্ত একটাই: যে জায়গায় CO2 টোটাল ফ্লাডিং সিস্টেম বসানো হবে, সেখানে ডিসচার্জের সময় কোনো মানুষ থাকতে পারবে না — এবং এটা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ডিজাইনের মধ্যেই রাখতে হবে।

মানুষ থাকা জায়গায় CO2-এর ঝুঁকি

এই অংশটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আগুন নেভাতে CO2 সিস্টেম রুমে যে মাত্রায় গ্যাস ছাড়ে, সেই মাত্রা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। গ্যাসটা রংহীন, গন্ধহীন — কেউ টের পাওয়ার আগেই অচেতন হয়ে যেতে পারে। তাই CO2 সিস্টেমের ডিজাইনে মানুষের নিরাপত্তার জন্য একাধিক স্তর রাখা হয়:

  1. প্রি-ডিসচার্জ অ্যালার্ম: গ্যাস ছাড়ার আগে শব্দ ও আলোর সংকেত, যাতে সবাই বের হতে পারে।
  2. টাইম ডিলে: অ্যালার্ম আর ডিসচার্জের মাঝে নির্দিষ্ট সময়।
  3. লকআউট ভাল্‌ভ বা ম্যানুয়াল লকআউট: রক্ষণাবেক্ষণের সময় কেউ রুমে কাজ করলে সিস্টেম নিষ্ক্রিয় রাখার ব্যবস্থা।
  4. অ্যাবোর্ট সুইচ: ভুল অ্যালার্মে ডিসচার্জ থামানোর জন্য (ডিজাইন অনুযায়ী)।
  5. সতর্কতা সাইন: প্রতিটি প্রবেশমুখে CO2 সিস্টেমের সতর্কবার্তা।
  6. ডিসচার্জের পর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ: রুম পুরোপুরি ভেন্টিলেট না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঢুকবে না।

CO2 সিস্টেমের এই শর্তগুলো NFPA 12-এর মতো স্ট্যান্ডার্ডে বিস্তারিত বলা আছে। যে রুমে নিয়মিত মানুষ কাজ করে — যেমন অপারেটর বসে এমন কন্ট্রোল রুম — সেখানে CO2 টোটাল ফ্লাডিং বেছে নেওয়ার আগে খুব ভালোভাবে বিবেচনা করুন; সাধারণত সেখানে FM200-এর মতো ক্লিন এজেন্টই বেছে নেওয়া হয়।

সার্ভার রুম ও ইলেকট্রিক্যাল রুমের জন্য কোনটা

বাস্তবে সিদ্ধান্তটা প্রায়ই এভাবে নেওয়া হয়:

জায়গাসাধারণ পছন্দকারণ
সার্ভার রুম ও ডেটা সেন্টারFM200 (বা অন্য ক্লিন এজেন্ট)মানুষ ঢোকে, যন্ত্রপাতি দামি, অবশিষ্টাংশ চলবে না
UPS ও ব্যাটারি রুমFM200ইলেকট্রনিক্স রক্ষা, মাঝে মাঝে মানুষ ঢোকে
কন্ট্রোল রুম (অপারেটর থাকে)FM200মানুষের নিরাপত্তা প্রধান
মানুষবিহীন জেনারেটর রুমCO2 বা FM200মানুষ না থাকলে CO2 বিবেচনা করা যায়
ট্রান্সফরমার বা সুইচগিয়ার রুম (মানুষবিহীন)CO2 বা FM200প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হলে CO2 সম্ভব
কেবল টানেল ও কেবল ভল্টCO2মানুষ থাকে না, গ্যাস ফাঁকে পৌঁছায়

শুধু রুমের নাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। রুমে কত ঘন ঘন মানুষ ঢোকে, রুম কতটা সিল করা যায়, আর কী ধরনের যন্ত্রপাতি আছে — এগুলো ডিজাইনারের সাথে আলোচনা করুন। ছোট প্যানেলের পাশে হাতে ব্যবহারের জন্য CO2 বা FM200 এক্সটিংগুইশারও রাখুন — সিস্টেম থাকলেও প্রাথমিক আগুনে এগুলো দ্রুত কাজে আসে।

ডিজাইন ও কেনার আগে যা জিজ্ঞাসা করবেন

গ্যাস সাপ্রেশন সিস্টেম "সিলিন্ডার কিনে বসিয়ে দেওয়া" নয়, এটা একটা ইঞ্জিনিয়ারড সিস্টেম। কোটেশন নেওয়ার সময় সরবরাহকারীকে এই প্রশ্নগুলো করুন:

  • ডিজাইন হিসাব: রুমের আয়তন, সিলিংয়ের উপরের ও ফ্লোরের নিচের ফাঁকা অংশ ধরে এজেন্টের পরিমাণের হিসাব দেখাবেন কি?
  • কোন স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হয়েছে: FM200-এর জন্য NFPA 2001, CO2-এর জন্য NFPA 12 বা সমমানের।
  • ফ্লো ক্যালকুলেশন ও নজলের অবস্থান: সব জায়গায় সমানভাবে গ্যাস পৌঁছাবে কিনা।
  • রুম ইন্টিগ্রিটি: রুম যথেষ্ট সিল না হলে গ্যাস বেরিয়ে যায় আর কনসেনট্রেশন টেকে না। রুম ইন্টিগ্রিটি টেস্ট (ডোর ফ্যান টেস্ট) হবে কিনা।
  • ডিটেকশন ও কন্ট্রোল প্যানেল: কোন ধরনের ডিটেক্টর, ক্রস-জোন লজিক আছে কিনা, ফায়ার অ্যালার্মের সাথে সংযোগ।
  • সিলিন্ডার ও এজেন্টের কাগজ: উৎপত্তি, টেস্ট সার্টিফিকেট ও লিস্টিং।
  • রক্ষণাবেক্ষণ: সিলিন্ডারের ওজন বা চাপ নিয়মিত চেক, প্যানেল টেস্ট — কে করবে।

রুমের মাপ, ব্যবহার আর মানুষ কতক্ষণ থাকে তা জানিয়ে কোটেশন অনুরোধ পাঠান। কারখানার কোন জোনে এই সিস্টেম মানায় তা জানতে পড়ুন কারখানার অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জামের তালিকা।

সাধারণ প্রশ্ন

সার্ভার রুমের জন্য FM200 না CO2?

সার্ভার রুমে মানুষ ঢোকে এবং যন্ত্রপাতি সংবেদনশীল, তাই সাধারণত FM200-এর মতো ক্লিন এজেন্ট বেছে নেওয়া হয়। CO2 মূলত মানুষবিহীন জায়গার জন্য।

FM200 কি মানুষের জন্য নিরাপদ?

সঠিক ডিজাইন কনসেনট্রেশনে FM200 মানুষ থাকা জায়গায় ব্যবহারের উপযোগী ক্লিন এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। তবুও অ্যালার্ম বাজলে রুম থেকে বের হয়ে যাওয়া এবং ডিসচার্জের পর ভেন্টিলেশন না হওয়া পর্যন্ত না ঢোকাই নিয়ম।

CO2 সাপ্রেশন সিস্টেম কেন বিপজ্জনক?

আগুন নেভাতে CO2 যে মাত্রায় ছাড়া হয় তা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে, আর গ্যাসটা রংহীন ও গন্ধহীন। তাই প্রি-ডিসচার্জ অ্যালার্ম, টাইম ডিলে ও লকআউট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে রাখা হয়।

গ্যাস সাপ্রেশন সিস্টেম থাকলে কি এক্সটিংগুইশার লাগবে না?

লাগবে। ছোট আগুন দ্রুত নেভাতে বা সিস্টেম কাজ না করলে হাতে ধরা CO2 বা উপযুক্ত এক্সটিংগুইশার প্রথম প্রতিরক্ষা।

রুম ইন্টিগ্রিটি টেস্ট কী?

এটা পরীক্ষা করে রুম কতটা সিল করা, অর্থাৎ ডিসচার্জের পর গ্যাস যথেষ্ট সময় রুমে থাকবে কিনা। সাধারণত ডোর ফ্যান টেস্ট দিয়ে এটা করা হয়।

তথ্যসূত্র

কোটেশন নিন

নাম, ফোন আর কী দরকার — এটুকুই যথেষ্ট। আমরা কল করব।

We use your details only to answer this request. See our privacy policy.

Call WhatsApp Quote